বাংলাদেশের আলোচিত যুবনেতা ও সামাজিক আন্দোলনের সংগঠক ওসমান হাদী মৃত্যুবরণ করেছেন। রাজধানী ঢাকায় সংঘটিত এক সশস্ত্র হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় দীর্ঘ চিকিৎসা চলাকালীন তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওসমান হাদীকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে গুলি চালানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ওসমান হাদী ছিলেন তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত একটি নাম। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার বক্তব্য ও কর্মসূচি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে ছাত্র ও যুব সমাজের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই তাকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেখছিলেন।
তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়ে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তারা রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পেছনের প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি, তবে তদন্ত অগ্রগতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওসমান হাদীর মৃত্যু কেবল একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং এটি বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সামনে জাতীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচন, রাজনৈতিক নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
দেশজুড়ে শোকের আবহে সাধারণ মানুষ এখন একটাই প্রশ্নের উত্তর জানতে চায়—এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার কি নিশ্চিত হবে? ওসমান হাদীর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আরেকটি সংবেদনশীল অধ্যায় হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন অনেকেই।

